গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় একই দিনে দুটি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং একটি পুকুর থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের বাংলা স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শরিফা ইসলাম (২০) নামের ওই কলেজছাত্রীর মরদেহ বাড়ির পেছনের একটি কাঁঠালগাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি উপজেলার উনিশিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বাড়ির পেছনে গাছ থেকে শরিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেলে তারা তাকে নিচে নামিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শরিফার বড় বোন মাহমুদা খানম জানান, চলতি মাসের ২৮ তারিখ শরিফার সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতির অভাবে তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। ঘটনার পর শরিফার পড়ার টেবিল থেকে মা-বাবার উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে শরিফা লিখেছেন, ‘২৮ তারিখ আমার পরীক্ষা, আজ ১৮ তারিখ চলছে। এখন পর্যন্ত সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারি নাই। পরীক্ষা দিলে আমার রেজাল্ট ভালো হবে না। আর রেজাল্ট ভালো না হলে তোমরা ও স্যার–ম্যামদের সামনে কীভাবে গিয়ে দাঁড়াব। তাই আমি তোমাদের কষ্ট দিয়ে চলে গেলাম।’
এদিকে, কোটালীপাড়া পৌর এলাকার একটি পুকুর থেকে মিরাজুল ইসলাম খলিফা (২৪) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি শিমুলবাড়ি গ্রামের লাল মিয়া খলিফার ছেলে। মিরাজুলের বড় বোন নূপুর বেগম জানান, তাঁর ভাই মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকা না পেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর করতেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে মায়ের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি। সকালে এলাকাবাসী পুকুরে তাঁর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
নূপুর বেগম আরও জানান, প্রায় এক বছর আগে মাদকসেবনের কারণে মিরাজুলের স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হয় এবং তাদের দুই সন্তান বর্তমানে মায়ের কাছে থাকে।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ জানান, মিরাজুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অন্যদিকে, শরিফা ইসলামের মৃত্যুতে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।