ময়মনসিংহ নগরীর দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় ডিবি ও ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নটর ডেম কলেজের পেছনের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ৩১ বছর বয়সী আবদুস সামাদ নামের ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে টহলরত কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাদিরুল ইসলাম দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দেখতে পান। মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসানো যুবকের মুখভঙ্গি ও শারীরিক ভাষা দেখে তিনি সন্দেহ করেন। পরপর কিছুক্ষণ গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর তিনি যুবকের চিৎকার শুনতে পান। এরপর নির্মাণাধীন ভবনটি থেকে যুবককে উদ্ধার করে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আবদুস সামাদকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁকে জালালের মোড় এলাকার ওই ভবনে নিয়ে মারধর করা হয় এবং মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

উদ্ধার হওয়া আবদুস সামাদ জানান, তিনি চুরখাই বাজারে গো-খাদ্যের ব্যবসা করেন। বিয়েতে যাওয়ার পথে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। ঘটনার কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আসল পুলিশ না এলে কী হতো জানি না।’

আটককৃতরা হলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ছিট আলোকদী এলাকার শামীম ইসলাম (৩৫), ময়মনসিংহ নগরের সুতিয়াখালী এলাকার আল-আমীন (২০), শেরপুরের নকলা উপজেলার চরভাবনা এলাকার ফারুক আহম্মেদ (৩৫), সুতিয়াখালী এলাকার পিয়াস মিয়া (২২) এবং নগরের বাগমারা এলাকার দিদারুল ইসলাম (৫৮)।

পুলিশ জানায়, আটককৃত শামীম ইসলাম নিজেকে সেনাসদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে দুই মাসের বার্ষিক ছুটিতে গিয়ে তিনি আর ইউনিটে ফেরেননি।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আটককৃতদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন সিটি করপোরেশনের কম্পিউটার অপারেটর আছেন। তাঁরা আগে একই ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।