খুলনা শহরের হরিণটানা এলাকায় মো. আজমল নামে এক যুবককে মারধর করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ওই এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে আজমলকে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেন।

স্থানীয়দের জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের বাড়ি থেকে চেঁচামেচির শব্দ শোনার পর তারা বাইরে আসেন। তখন দেখা যায়, ওই ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছে। পরে তিনি নিচে পড়ে যান। আহত অবস্থায় তিনি পানি চাইলে স্থানীয়রা তাকে পানি দেন। এরপর কয়েকজন তাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সযোগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক আহত অবস্থায় আজমলকে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা যুবকরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, "ঘটনাটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে ঘটেছে। খাজা হলের গেটের বাইরে একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটি ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দেওয়া। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকেন।"

পুলিশ জানায়, আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তার শরীরে আঘাতের ধরন এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, "ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। আজমলের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"