ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, "বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যেকোনো সময় দেশ ছাড়তে এবং দেশে ফিরতে পারেন"। তিনি জানান, সংবিধানে এই অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তবে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের থাকবে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়।

আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের 'ভাষাসৈনিক অলি আহাদ সম্মাননা স্মারক' প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমিন ফারহানা। তাঁর বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদের স্মরণে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, "১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হলেও ভাষাসৈনিক অলি আহাদের অবদান ইতিহাসে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি। দেশের ইতিহাস অনেক সময় রাজনৈতিক বয়ানের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে, ইতিহাস অনেক সময় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই লেখা হয়। তা না হলে অলি আহাদ, মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বদের জীবন ও অবদান সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরও বিস্তৃতভাবে জানতে পারত।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। লাঠিখেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ঝাড়ু মিছিল এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার হুঁশিয়ারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "রাজনীতিতে এসব হয়, এটা নতুন কিছু নয়। রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকবে, মিছিল-মিটিং হবে এবং অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হতে পারে—এগুলোই স্বাভাবিক রাজনীতি।"

তিনি আরও যুক্তি দেন, "মূলত রাজনীতিকদের কথার জবাব সাধারণ মানুষই দেয়। আজকের এই অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি সেটিই প্রমাণ করেছে।"

অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আশপাশে ৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।