ঝিনাই নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি সেতু’র টেন্ডার দ্রুত আহ্বান ও নির্মাণকাজ শুরু করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামালপুরের চার উপজেলার বাসিন্দারা। প্রকল্প অনুমোদনের পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও টেন্ডার প্রক্রিয়া না হওয়ায় স্থানীয়রা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর তীরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, জামালপুর সদর ও সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা ঘোষেরপাড়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ঝিনাই নদীর তীরে এসে শেষ হয়। এ সময় দ্রুত টেন্ডার আহ্বান ও সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর দাবিতে নানা স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝিনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চার উপজেলার মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারে ভরসা কেবলই নৌকা। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে এ দুর্ভোগ আরও মারাত্মক রূপ নেয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও বয়স্কদের নদী পারাপারে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) মেলান্দহ উপজেলার চর ঘোষেরপাড়া-দক্ষিণ ঘোষেরপাড়া ভায়া দাখিল মাদ্রাসা সড়কে ঝিনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে অনুমোদনের পরও এখনো টেন্ডার আহ্বান না করায় হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

এ বিষয়ে মুক্তার আলী বলেন, "নদীর কারণে আমাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে চার উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে।"

সুলাইমান ইসলাম বলেন, "এই সেতুর দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম দ্রুত কাজ শুরু হবে। কিন্তু এখনো টেন্ডার না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছি।"

স্থানীয় বাসিন্দা মীর ইসহাক হাসান ইখলাস বলেন, "ঝিনাই নদীর ওপর সেতু না থাকায় চার উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট করছেন। প্রকল্প অনুমোদনের পর আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"