জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর হোসেন আলীকে বিএনপির দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি ফুলকোচা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ফুলকোচা ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জহুরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান মামুন স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায়। মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফুলকোচা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের ইটভাটার সামনে এই অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় হোসেন আলীকে। তিনি ফুলকোচা গ্রামের মৃত হযরত আলীর পুত্র। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মেলান্দহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামালপুর ডিবি-১-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর রহমান তালুকদার পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নেতার বহিষ্কার প্রসঙ্গে ফুলকোচা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোখলেছুর রহমান মামুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ শৃঙ্খলাপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার দায় দল নেবে না। হোসেন আলীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”