মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দেশনাপত্র পাঠানো হয়েছে, যাতে তাদের চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করলে বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই নির্দেশনাপত্রটি সব সচিব (মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সচিব), বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করা হয়।
নির্দেশনাপত্রে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯’-এর সংশ্লিষ্ট বিধিতে সরকারি কর্মচারীদের আচরণের ধরন সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু সরকারি কর্মচারী তাঁদের চাকরিসংক্রান্ত নানা বিষয়ে তদবির করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলোকে বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ করছেন। এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, এমন আচরণকে অসদাচরণের শামিল বলে গণ্য করা হবে। কোনো সরকারি কর্মচারী যদি তাঁর চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করান, তবে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনানুযায়ী কর্মকর্তারাও কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নির্ধারিত নথিপত্রে (ডোসিয়ার) সংরক্ষণ করা হবে।
তবে নির্দেশনাপত্রে একটা ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। যেকোনো কর্মচারী তাঁর চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে পারবেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই আবেদন সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষকে।