আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে কোনো ম্যাচেই মাঠে নামতে পারেননি ভারতীয় তারকা ব্যাটসম্যান বৈভব সূর্যবংশী। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন সহকর্মী অভিষেক শর্মা। সব ধরনের টি-টুয়েন্টি মিলিয়ে চলতি বছরে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড এখন অভিষেকের দখলে—৯৬টি। আফগানিস্তান সিরিজের শুরু থেকেই বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক ছক্কার খেলায় জোরদার হয়েছেন; এই সিরিজেই তিনি মেরেছেন ২২টি ছক্কা। অন্যদিকে, সিরিজের আগে এগিয়ে থাকা সূর্যবংশী পড়ে আছেন ৮৬ ছক্কায়।

পরিসংখ্যানের দিক থেকে সূর্যবংশীর অবস্থান উল্লেখযোগ্য। ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান মাত্র ২২ ম্যাচে ৮৬টি ছক্কা মেরেছেন, যা গড়ে প্রতি ৪.৯৯ বলে একটি করে ছক্কার সমান। এর তুলনায় অভিষেক শর্মা একটি ছক্কা মারতে গড়ে ৬.৬৪ বল খেলতে বাধ্য হয়েছেন। তবে রেকর্ডের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে অভিষেকেরও যুক্তি রয়েছে। কারণ, যে এক বছরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের জন্য তারা দুজন লড়ছেন, সেই রেকর্ডটি গত বছর গড়েছিলেন অভিষেক নিজেই। গত বছর তিনি ১০৮টি ছক্কা মেরে ভারতীয়দের মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েন। ২০২৪ সালেও তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল ৮৭টি ছক্কা। অর্থাৎ, টানা তিন বছর ধরে ছক্কার তালিকায় নিজের নামটাকেই বারবার ওপরে তুলছেন অভিষেক।

যদি এই লড়াই শুধুমাত্র ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখা হয়, তাহলে দেখা যায় যে, বিশ্বজুড়েই ভারতীয়রাই এখন ছক্কার নতুন ‘মাস্টার’। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। সে বছর অভিষেক ১০৮টি ছক্কা মেরে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছিলেন শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডের নিকোলাস পুরান, যিনি মেরেছিলেন ১২১টি ছক্কা। যদিও পুরান অভিষেকের চেয়ে ১৩টি ছক্কা বেশি মেরেছেন, কিন্তু এই অর্জনের জন্য তাঁকে অভিষেকের চেয়ে ২২টি ম্যাচ বেশি খেলতে হয়েছে।

চলতি বছরের পরিস্থিতিও একই রকম। সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় অভিষেক আছেন তিনে। তাঁর চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছেন পুরান (৯৯টি) এবং ফিন অ্যালেন (১০১টি)। পুরান মেরেছেন তিনটি এবং অ্যালেন পাঁচটি ছক্কা বেশি। কিন্তু এ দুজনই অভিষেকের চেয়ে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। অভিষেক যেখানে ৪১টি ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে পুরান খেলেছেন ৪৯টি এবং অ্যালেন ৫২টি।

অভিষেক যদি ৮ থেকে ১০টি ম্যাচ বেশি খেলতেন, তবে ছক্কার তালিকায় তাঁর অবস্থান কেমন হতো, তা অনুমান করা কঠিন নয়। আর সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে কথাটি আরও প্রযোজ্য, কারণ তিনি অভিষেকের চেয়েও ১৯টি ম্যাচ কম খেলেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সংখ্যা কম হওয়ার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আইপিএল বা অন্যান্য বিদেশি লিগে খেলার সুযোগ না থাকায় ভারতীয়রা ঘরোয়া লিগেই সীমাবদ্ধ থাকেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি দলে ভারত প্রায়শই পরিবর্তন আনে, যার ফলে সূর্যবংশীর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি।

অন্যদিকে, পুরান ও অ্যালেনের মতো বিদেশি খেলোয়াড়দের আসল খেলা দেখা যায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে, যার ফলে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগও তুলনামূলকভাবে বেশি।