বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাডাও কোনো ব্যতিক্রম নয়। ভ্যাঙ্কুভার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত ঢাবি প্রাক্তনরা বিভিন্ন খাতে সাফল্যের সাক্ষর রেখেছেন। এই সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’ সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি বর্ণিল বার্ষিক পিকনিক ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সারি শহরের বিয়ার ক্রিক পার্কে দিনব্যাপী এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই সমাগমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা প্রবাসের ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা ফুরসত নিয়ে মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতি তর্পণে। স্মৃতির ধারায় ভেসে ওঠে প্রিয় শিক্ষকদের স্নেহ, ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম প্রেম, ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিনের চায়ের কাপে তোলা আড্ডা এবং রাজপথ কাঁপানো ছাত্ররাজনীতির দিনগুলো।
আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে আয়োজিত হয়েছিল হরেক রকমের খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। পুরুষদের জন্য ছিল ফুটবল ম্যাচ, নারীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী মিউজিক্যাল পিলো ও চেয়ার, আর শিশু-কিশোরদের জন্য ‘বল-ইন-দ্য-বাকেট’ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা শনাক্তকরণের চিত্র-কুইজ। সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের হৃদয়ানুরাগে পরিবেশিত গান ও আবৃত্তি বিশেষ মুখর করে তোলে পরিবেশ।
খাবারের আয়োজনে ছিল ষোলো আনা দেশি স্বাদের ছোঁয়া। সকালে চা-বিস্কুট দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে দুপুরে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় সুস্বাদু পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস, ডিমের কারি, সালাদ ও ক্ষীর দিয়ে। বিকেলের আড্ডায় সঙ্গ দিতে দেওয়া হয় দেশি মসলায় মাখানো ঝালমুড়ি ও ধোঁয়া ওঠা চা। দিনশেষে র্যাফল ড্র ও প্রতিযোগিতার বিজয়ীসহ সব অংশগ্রহণকারীকে আকর্ষণীয় উপহার তুলে দেওয়া হয়।
এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক–সংবলিত দুটি ব্যানার এবং একটি সুদৃশ্য ফটোফ্রেম। এতে কার্জন হল, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, অপরাজেয় বাংলা, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, জগন্নাথ হল, মধুর ক্যানটিনসহ চত্বর এবং ক্যাম্পাসের নান্দনিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর ছবি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বর্ণিল ব্যানারটির নান্দনিক নকশা ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন ম্যাক কবির (ম্যাক কবির খান)।
২০২২ সালে ‘এক্স স্টুডেন্ট পরিবার’ নামে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অব বিসি’। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহার পুনর্মিলনীসহ নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদ্যাপনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারির সংকট কাটিয়ে উঠার পর ২০২৫ সাল পর্যন্ত তারা সফলভাবে বেশ কয়েকটি ঈদ পুনর্মিলনী ও পিকনিকের আয়োজন করেছে।
পিকনিকসহ প্রতিটি আয়োজন সফল করতে সংগঠনের সদস্যরা নিরলস ও একনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্মানিত সদস্যরা প্রতিটি উদ্যাপনে প্রাণ সঞ্চার করেন। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান সুমন, সৈয়দ নিজাম আহমেদ, শফিকুর রহমান, দিদার আহমেদ, মোহাম্মদ ইমন, রাসেল আমিন, রাশেদ মাহমুদ, জাহিদ লতিফ, ইমন বারী, সালমান মাহবুব, আবদুল মালেক, শাহাবুদ্দিন, লিমন, তাওলাদ হোসেন কাজল, মুনির ভূঁইয়াসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
হাসি, সুর, খেলা, মজাদার প্রতিযোগিতা ও তারুণ্যের সোনালি স্মৃতির মেলবন্ধনে বিয়ার ক্রিক পার্কের এই আয়োজন ভ্যাঙ্কুভারে বসবাসরত ঢাবি অ্যালামনাইদের জন্য এক মুখর ও অবিস্মরণীয় মিলনমেলায় পরিণত হয়। সবাই ঘরে ফেরেন বুকভরা নস্টালজিক স্মৃতি নিয়ে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জনাব সৈয়দ নিজাম আহমেদ জানান, আগামী দিনে তাঁদের বর্ণিল ‘শীতের পিঠা উৎসব’সহ আরও নানা উদ্যোগ থাকবে।