ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকায় দুই নারী নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি মুজাহিদ ওরফে রাকিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় রাকিবের নানার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯ তাঁকে আটক করে।

রাকিব মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বুড্ডা এলাকার বাসিন্দা। আজ বুধবার দুপুরে এসআরবি-৯-এর গণমাধ্যম শাখা থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

এসআরবি জানায়, ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার চান্দিনার একটি পেশাদার নৃত্যশিল্পী দলকে সরাইলে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান রাকিব। এ বিষয়ে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি হয় এবং তিনি ২ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। প্রস্তাব গ্রহণ করে চান্দিনা থেকে সরাইলে যান দুই নারী নৃত্যশিল্পী। তাদের সাথে একজন তরুণও ছিল। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চের পরিবর্তে তাদের তিতাস নদীর মাঝখানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তরুণকে জিম্মি রাখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ছয় যুবক ওই দুই শিল্পীকে ধর্ষণ করেন। বিকেল পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নৌকার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে এসআরবি জানিয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে এসআরবি আরও জানায়, ঘটনার পর রাত আটটার দিকে ওই তিনজনকে নাসিরনগর উপজেলার ভূঁইয়ার ঘাট এলাকায় কাদাপানির মধ্যে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা নৌকা নিয়ে চলে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর সরাইল থানার পুলিশ শান্ত বিশ্বাস (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাকিব মিয়ার অবস্থান সম্পর্কে খবর পায় এসআরবি-৯। এরপর গতকাল রাতে সিলেটের বিয়ানীবাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম কর্মকর্তা) কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, রাকিব মিয়াকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।