ফেনী সদর হাসপাতালে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা এবং উত্তেজিত হয়ে কথা বলার অভিযোগে চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

শোকজ পাওয়া নার্সরা হলেন—জাহানারা আক্তার কাজল, লক্ষ্মী রানী দে, মিতালী রানী ও কণিকা রানী ভৌমিক। নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তারা জবাব প্রদান করবেন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হাসপাতালের প্রশাসনিক অনিয়ম দূর করা এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। উক্ত সভায় পরিবেশমন্ত্রী ছাড়াও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সভা শেষ হওয়ার পর কয়েকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় তারা পেশাগত সমস্যা এবং তীব্র জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলেন। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত নার্সদের শোকজ করে।

এ বিষয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সম্মেলনকক্ষে প্রবেশ করে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা ও উত্তেজিত স্বরে কথা বলার যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু ও শিষ্টাচারবহির্ভূত। কোনো দাবি বা বক্তব্য থাকলে তারা প্রশাসনিক নিয়ম মেনে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাতে পারতেন।"

তিনি আরও জানান, "এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণের কারণে চার নার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"