জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মিয়ার দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ বুরহান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাসেল মিয়া মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তিনি উপজেলার গাবেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুল হামিদ বুরহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। এ কারণে সাংগঠনিকভাবে রাসেল মিয়াকে তার পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
এর আগে, সোমবার রাতে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে রাসেল মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার ওবিনুর, সেলিম, সুমন ও সুমন ওরফে নুরু মিয়া। তাদের কাছ থেকে চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত দুই মাসে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকেরা। এসব ঘটনায় মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল কার্যালয় থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ তদন্ত করে একটি চক্রের সন্ধান পায়। পরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার পাঁচজনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, "গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করা হচ্ছে। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।"