নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়িতে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে আছেন এবং তাঁর পাশে থাকা অন্যরা লাঠি ও ইট দিয়ে হামলা চালাচ্ছেন। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি কর, গুলি কর।’ এসময় ঘরের ভেতর নারীদের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকুড়িয়াকান্দি পাটোয়ারী বাড়ির দুই ভাই মজিব উল্যাহ ও শরিফ উল্যাহর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে মজিব উল্যাহর পরিবারের সদস্যরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে শরিফ উল্যাহর বাড়িতে হামলা চালান। এতে শরিফ উল্যাহর পরিবারের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন মুখোশ পরেছিলেন। একজন অস্ত্রধারী আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এতে কেউ আহত হননি।
আমানউল্যাপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. বাহরুল আলম ওরফে সুমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক পক্ষ বহিরাগত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীদের একজন প্রকাশ্যে গুলি করেছেন।
হামলার পর রাতে শরিফ উল্যাহর ছেলে মোবারক উল্যাহ মামলা দায়ের করেন। পুলিশি অভিযানে মো. ইসরাফিল (৩৪), মজিব উল্যাহ (৬৫) ও তোফায়েল আহমেদ (৬০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইসরাফিলই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ঘটনাস্থলে ছিলেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, "পারিবারিক এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে গুলি ছোড়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।"
ওসি আরও জানান, ভাইরাল ভিডিও ও অডিও পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত অস্ত্রধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।