জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুসন্ধানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এনসিপি। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত ‘আজকের কণ্ঠ’ অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের জেরে এই তদন্ত শুরু হওয়ায় তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে দলটি।

এনসিপি-র আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, পতনপ্রাপ্ত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের ছড়ানো গুজব এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রচিত প্রোপাগান্ডাকে ভিত্তি করে দুদকের মতো রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সরকার দুদককে দলীয়করণ করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতাদের চরিত্রহনন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে দমিয়ে রাখার জন্য দুদককে পুরোনো আমলের মতো রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, "নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের তথ্যসূত্রহীন কাল্পনিক সংবাদের ওপর ভর করে যে কমিশন তদন্তের নাটক সাজায়, সেই কমিশনের কোনো ন্যূনতম নিরপেক্ষতা বা নৈতিক ভিত্তি থাকতে পারে না।" তারা মনে করেন, গণ-অভ্যুত্থানের রূপকারদের রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা এবং ফ্যাসিবাদের পেছনের পথ প্রস্তুত করতেই এই সাজানো অপতৎপরতা শুরু করা হয়েছে।

এনসিপি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সত্যিকারের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও জুলাই সনদের ঘোষিত প্রক্রিয়ায় পুনর্গঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হলে, যেকোনো ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হতে বা সুষ্ঠু তদন্তে এনসিপি পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে যদি নিরপেক্ষ তদন্তের নামে অসাংবিধানিক ও দলীয়করণের শিকার এই কমিশনকে বিরোধী দল ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সংগ্রামীদের দমনের হাতিয়ার বানানো হয়, তবে এনসিপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

নেতৃবৃন্দ সরকারকে পতিত ফ্যাসিবাদীদের পদচিহ্ন অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তারা অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ঘায়েল বন্ধ করে জুলাই সনদের স্পিরিট অনুযায়ী স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত দুদক পুনর্গঠনের দাবি জানান। অন্যথায়, ক্ষমতার রাজনৈতিক অপব্যবহার ও সরকারি নীল নকশার বিরুদ্ধে দেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।