ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরও রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্য থেকে ভয়ের অবসান হয়নি। এই আতঙ্কে অনেক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই ছাড়পত্র ছাড়াই হাসপাতাল ত্যাগ করে বাড়ি ফিরে গেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডের শয্যা, মেঝে এবং বারান্দায় রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সাধারণ দিনগুলোর তুলনায় মেঝে ও বারান্দায় রোগীর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা জানান।
রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সময় সৃষ্ট প্রচণ্ড ভয় এখনও কাটেনি। যারা গুরুতর অসুস্থ নন, তারা আতঙ্কের কারণে ছাড়পত্র না নিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। হাসপাতালের পুরোনো ভবনের তিন তলার এক কোণে বসে থাকা সাইদা পারভীন নামের এক স্বজন বলেন, "অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রোগী কিছুটা কমে গেছে। আতঙ্কে কেউ কেউ চলে গেছেন।"
আরেক স্বজন লিটন আহমেদ বলেন, "হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ভয় ঢুকে গেছে। আবার অগ্নিকাণ্ড ঘটবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই গুরুতর অসুস্থ নন, এমন অনেকেই চলে গেছেন। তবে আগে থেকেই হাসপাতালে মাত্রাতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় রোগী কমে যাওয়ার বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না।"
অগ্নিকাণ্ডের সময় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে কুলসুমা নামের এক নারী মারা যান। মঙ্গলবার বিকেলে তার বাড়িতে যান ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। কুলসুমার ১২ বছরের ছেলে স্বাধীন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গত ১১ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের ষষ্ঠতলায় চিকিৎসাধীন ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর স্বাধীন ছাড়পত্র ছাড়াই বাড়ি চলে আসে। পরিবারটিকে স্বাধীনকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন মোতাহার হোসেন তালুকদার।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, "হাসপাতালে প্রচুর রোগী ও তাদের স্বজন রয়েছেন। তুলনামূলক কম অসুস্থ কিছু রোগী আগুন আতঙ্কে ছাড়পত্র না নিয়েই চলে গেছেন। তবে সে সংখ্যা খুব বেশি নয়।"
তিনি আরও জানান, এখনও হাসপাতালে বিপুল পরিমাণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় সবাইকে বিছানা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অনেকেই মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে আতঙ্কে ঠিক কতজন রোগী ছাড়পত্র ছাড়া চলে গেছেন, সেই পরিসংখ্যান এখনো হাসপাতালের কাছে নেই।