বরিশাল নগরের একটি বাসা থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পলাতক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে বরিশাল মহানগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠি কলোনির একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে বরিশাল বিমানবন্দর থানার পুলিশ। নিহত নুরুজ্জামান হাওলাদার (৫৪) বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের পূর্ব তয়কা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪২) একই উপজেলার বালিয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান ও নাসিমা বেগম ওই ভাড়া বাসায় একত্রে থাকতেন। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে; বড় ছেলে মালয়েশিয়ায় থাকেন এবং মেয়ে ঢাকায় বিবাহিত। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল। স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতেও তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আজ সকালে বাসার বাইরে তালা লাগানো দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পুলিশ খবর পেয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে নুরুজ্জামানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দাম্পত্য কলহের জেরে নাসিমা বেগম তাঁর স্বামীকে আঘাত করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে থাকতে পারেন। এরপর বাসার বাইরে তালা লাগিয়ে তিনি পালিয়ে যান। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এ ঘটনায় আজ বিকেলে নিহত নুরুজ্জামানের ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে নাসিমা বেগমকে আসামি করে বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।"