চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিএসসি) সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ১৪ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান বাদী হয়ে নিজ কার্যালয়ে মামলাটি করেন। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আ জ ম নাছির উদ্দীনের নামে ২ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ টাকার স্থাবর এবং ২৬ কোটি ৩৮ লাখ ১ হাজার ২৮৫ টাকার অস্থাবর সম্পদ ছিল। একই সময়ে তাঁর দায়-দেনার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮ টাকা। দায়-দেনা বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ২২ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার ১৮৭ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, ওই সময়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে ১৮ কোটি ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮ টাকা ব্যয় করেন। ফলে তাঁর মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৬১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৫ টাকা। বিপরীতে অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় ২৬ কোটি ৬২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬৫ টাকা। এ হিসাবে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭০ টাকা।
দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক সাঈদ আহমদ ইমরান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আ জ ম নাছির উদ্দীন তাঁর সম্পদের বিবরণীতে মৎস্য চাষ থেকে আয় দেখিয়েছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে বাস্তবে তাঁর কোনো মৎস্য চাষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। যাঁদের সঙ্গে মৎস্য চাষের চুক্তিপত্র দেখানো হয়েছে, তাঁরাও জানিয়েছেন, নাছির উদ্দীনের সঙ্গে তাঁদের কোনো চুক্তি হয়নি। তাঁদের কোনো পুকুরও নেই।"
সাঈদ আহমদ ইমরান আরও বলেন, "আ জ ম নাছির উদ্দীন দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। এসব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।"
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় বাদীরা পরে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন।