মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালায় গত ৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত হয়েছে এক উৎসবমুখর বনভোজন। শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদন, মানসিক প্রশান্তি এবং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই আনন্দঘন কর্মসূচি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধনে রূপ নেয়।

সকাল থেকেই বনভোজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসাহের আমেজ দেখা যায়। পড়াশোনার ধারাবাহিক চাপের বাইরে গিয়ে নিজেদের উদ্যোগে এমন একটি আয়োজন সফল করতে পেরে তারা অত্যন্ত উৎফুল্ল ছিল। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পুরো আয়োজনের সার্বিক তদারকিতে শিক্ষার্থীরা একে অপরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দলগতভাবে কাজ করার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা এবং বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়ে ওঠে।

খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি বনভোজনের পরিবেশকে আরও আনন্দময় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব খেলায় অংশ নেয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার ফাঁকে এমন একটি চমৎকার দিন কাটাতে পেরে শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, এ ধরনের আয়োজন তাদের মানসিক ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সহপাঠীদের সাথে ক্লাসঘরের বাইরে সুন্দর কিছু সময় কাটানোর স্মৃতি তারা বহুদিন মনে রাখবে।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার উপদেষ্টা জনাব সফি খান বলেন, "এই বনভোজন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে একটি অন্যতম স্মরণীয় দিন হিসেবে জমা থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ বিকাশ ঘটাতে পারে না। শিক্ষার পাশাপাশি আনন্দঘন পরিবেশ ও সৃজনশীল কাজের চর্চা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সুস্থ ও সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।"

আয়োজন শেষে সকলের হাসিমুখ এবং একটি সুন্দর দিনের বার্তা নিয়ে সমাপনী ঘটে এই বনভোজনের।