ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। ২২ বছরের বেশি সময় ধরে এই ফরম্যাটে পথচলা করা জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর এবার কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকেও ছাড়িয়ে গেলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারারেতে মাঠে নেমেই পুরুষদের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মালিক হয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক ঘটেছিল টেলরের। এরপর ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় নামার মধ্য দিয়ে তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি দাঁড়াল ২২ বছর চার মাসের বেশি। অন্যদিকে, শচীন টেন্ডুলকারের ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল ২২ বছর ৯১ দিনের, যা শুরু হয় ১৯৮৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ২০১২ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির আগে টেলরের ওয়ানডে ম্যাচসংখ্যা ছিল ২০৭। অর্থাৎ রেকর্ড গড়ার ম্যাচটি তার ২০৮তম ওয়ানডে। জিম্বাবুয়ের হয়ে এই সংস্করণে ১১টি সেঞ্চুরিও করেছেন তিনি, যা দেশটির রেকর্ড।

ক্যারিয়ারের মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও টেলরের প্রত্যাবর্তন ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ও ডোপবিরোধী বিধি ভাঙার দায়ে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা পান। সেই শাস্তি শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন টেলর।

৪০ বছর বয়সী এই ব্যাটারের প্রত্যাবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার সঙ্গে সেই আসরের সহ-আয়োজক জিম্বাবুয়ে। বিশ্বকাপ সামনে রেখেই অভিজ্ঞ টেলরকে আবারও দলের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

শচীন দীর্ঘতম পুরুষ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের রেকর্ড হারালেও দুটি বড় বিশ্বরেকর্ড এখনো তার দখলে। ৪৬৩ ম্যাচে ১৮ হাজার ৪২৬ রান নিয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও সর্বোচ্চ রানের মালিক ভারতীয় কিংবদন্তিই। তবে পুরুষ ও নারী ক্রিকেট মিলিয়ে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ারের রেকর্ড এখনো মিতালি রাজের। ভারতের সাবেক অধিনায়কের ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল ২২ বছর ২৭৪ দিনের।