ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বাসাবাড়ি এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসিক ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করলেও, সেখানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনা চলমান। গত মে মাসে মুক্তকণ্ঠের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, নির্ধারিত ফির বাইরেও নাগরিকদের ময়লা অপসারণের নামে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিএসসিসি প্রশাসক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ব্যবধান রয়েছে, তা সাম্প্রতিক তথ্য আরও স্পষ্ট করেছে।

ডিএসসিসির বিভিন্ন স্থানে রসিদে ১২০ টাকা লিখে ৫০ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। তবে এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। পাশাপাশি, নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ না করার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত ময়লা সরানো না হওয়ায় জমে থাকা আবর্জনায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং নাগরিকরা নানাবিধ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সেবা প্রদানের নামে এই অতিরিক্ত ফি আদায়কে এক ধরনের চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

নির্ধারিত টাকার বেশি নিলে বা নিয়মিত ময়লা সরানো না হলে ঠিকাদারদের লাইসেন্স বাতিল করার হুঁশিয়ারি মাস চারেক আগে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর তদারকির প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা পালন করা হচ্ছে না। ফলে নির্দেশনাগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। এছাড়া, অভিযোগ করলে ময়লা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায় কি না—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী নগরবাসীরা।

অতিরিক্ত ফি আদায়ের পেছনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে বিভিন্ন সময়ে মুক্তকণ্ঠের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নগরবাসীকে সেবার নামে জিম্মি করে এই চক্র লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে।

এই সমস্যার সমাধানে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক নির্দেশনা যেন মাঠে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য সুষ্ঠু তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি তদারকিতে অনীহা প্রকাশ করেন বা নিয়মিত প্রতিবেদন না দেন, তবে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

পাশাপাশি, নগর-পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ আমলে নেওয়া জরুরি। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল সদিচ্ছার কথা বললেই নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতির সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। নগরবাসীকে অতিরিক্ত ফি ও দুর্গন্ধের ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তদারকি জোরদার করবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে চাঁদাবাজিমুক্ত করবে—এটাই প্রত্যাশা।