কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবু নামের এক ব্যক্তি তাঁর বড় বোন খালেদা আক্তার ও ভাতিজা মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটুকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
নিহত খালেদা আক্তার (৭০) দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী এবং তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। অন্যদিকে, নিহত মঞ্জুরুল আলম (৩৫) খালেদা আক্তারের ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্র ধরে পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়। এই সময় মোস্তাফিজুর তাঁর বড় বোন খালেদা আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন ভাতিজা মঞ্জুরুল। এ সময় মোস্তাফিজুর মঞ্জুরুলকেও একইভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে নিকটস্থ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, মৃত মনু মিয়ার ছয় ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার ছোট। জমি রেকর্ডের সময় তিনি পরিবারের জমি থেকে নিজের নামে সমবণ্টনের চেয়ে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড করিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে আদালতেও মামলা চলমান ছিল।
বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, "পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাঁদের কাছেও এসেছিল। তখন সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।"
অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, "মোস্তাফিজুর রহমানের কারণেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তিনি স্থানীয় বিচার-সালিসও মানতেন না। আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই এলাকাবাসী কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যায় বোন ও ভাতিজাকে হত্যার পর মোস্তাফিজুর পালিয়ে যান।"
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর একাই তাঁর বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর তিনি পালিয়ে গেছেন। ওসি আরও বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত দুজনের মরদেহ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।