চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ ও একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কতজন বিদেশি নাগরিক আছেন, তাদের ভিসার মেয়াদ ও বৈধতা এবং পূর্ববর্তী কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না—এসব বিষয় কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, "বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ও কর্মী কর্মরত আছেন। বৈধভাবে অবস্থানরতদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে সম্প্রতি নগরীর খুলশী এলাকা থেকে প্রতারণার অভিযোগে ২৫ জন অবৈধ বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তারের পর জেলার সার্বিক নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।"

তিনি বলেন, "বিশেষ করে সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা ও জোরারগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিদেশিদের আনাগোনা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে অবৈধ বিদেশিদের তথ্যসংক্রান্ত যে ঘাটতি ছিল, তা দূর করতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) কাজ করছে।"

চট্টগ্রামের আলোচিত অপরাধ অঞ্চল জঙ্গল সলিমপুর প্রসঙ্গে এসপি মাসুদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম এই পাহাড়ি অঞ্চলটি শীর্ষ অপরাধীদের অভয়ারণ্য ছিল। তবে গত ৯ মার্চ যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। সেখানে পুলিশের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং গত দেড় মাসে ৭৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বর্তমানে তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। সড়কগুলোর নির্মাণ শেষ হলে পুলিশ মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে যেকোনো পয়েন্টে পৌঁছাতে পারবে। আগামী এক মাসের মধ্যে জঙ্গল সলিমপুর পুলিশের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে পটিয়া, ফটিকছড়ি ও কদমরসের পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযানের কথা উল্লেখ করে এসপি সতর্ক করে দেন যে, পাহাড়ি এলাকাকে ব্যবহার করে কাউকেই আর অপরাধ চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সম্প্রতি ফটিকছড়ি থেকে শীর্ষ পাহাড়ি সন্ত্রাসী ‘গলাকাটা মোবারক’, ‘টেস্টার মোবারক’ ও ‘দাবাহারুনকে’ গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, পুলিশের প্রতিরোধমূলক টহল জোরদার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. জুনায়েত কাউছার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মো. বেলায়েত হোসাইন এবং রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।