চাঁদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অশোভন আচরণের অভিযোগ তুলে তাদের পদপ্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সালের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন সমিতির নেতা ও আইনজীবীরা। বক্তারা জানান, গত পাঁচ মাস ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবীরা এই আন্দোলনে নামছেন। তারা দাবি করেন, পারস্পরিক সমন্বয় ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, "এই কর্মসূচি শুধু আইনজীবীদের জন্য নয়, বিচারপ্রার্থীদের স্বার্থেও। আমরা বার ও বেঞ্চের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে বার ও বেঞ্চের মধ্যে কোনো সুসম্পর্ক নেই। এ কারণেই ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।"

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বিচারকদের বিষয়ে একাধিকবার কথা বললেও তিনি আইনজীবীদের বক্তব্যে কর্ণপাত করেননি। কয়েকজন বিচারক কর্তৃক আইনজীবীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাকে তিনি গ্রহণযোগ্য না বলে জানান। শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, "কোনো আইনজীবীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের হুমকিতে আইনজীবীরা পিছপা হবেন না।"

দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যেসব বিচারক হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, প্রয়োজনে তাদের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী বুধবার বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মানববন্ধনে সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, আহসান হাবীব ও কামাল উদ্দিন; সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন ও জসিম মেহেদী; সিনিয়র আইনজীবী ওমর ফারুক টিটো, তাফাজ্জল হোসেন, জসিম উদ্দিন, জহির উদ্দিন সরকার, জাবের হোসেন, সুপ্তা, আবু সায়েম, তৌহিদুল ইসলাম তরুন, মানসুরী, শাহ আলম ফরাজী এবং শেখ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও পেশকারদের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তারা দাবি করেন, আদালতের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে অর্থ আদায়কে অনেকে নিয়মে পরিণত করেছেন। অবিলম্বে এসব ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

এর আগে, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) উক্ত তিন বিচারকের প্রত্যাহারের দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা করেন আইনজীবীরা। তারও আগে ৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে প্রায় সাড়ে চারশো আইনজীবীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় তিন বিচারকের আদালত বর্জনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।

আদালত বর্জনের তালিকায় থাকা তিন বিচারক হলেন—চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক পলাশ বর্ধন এবং সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক শম্পা ইসলাম।