লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির এক মতবিনিময় সভায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতেই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এতে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিএনপি আয়োজিত এই সভায় ঘটনাটি ঘটে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান এবং লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল এবং তার চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বিগত সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের কোন্দল রয়েছে। এই বিরোধের কারণে ওই আসনে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে।

সভা চলাকালে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারী ও উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেওয়ার সময় সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দলীয় ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। এর প্রতিবাদে বাবুলের অনুসারীরা আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরোধিতার পাল্টা অভিযোগ তোলেন। এই বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে সংঘাত ও মারামারিতে রূপ নেয়। দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই পুরো অডিটোরিয়ামে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আখেরুজ্জামান স্বাধীনসহ পাঁচজন আহত হন। গুরুতর আহত হামিদুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা সংঘর্ষের ভিডিওগুলো পরবর্তীতে মুছে দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর থেকে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুনরায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আহত হামিদুর রহমানের ছেলে নাসির ইমতিয়াজ নিলয় বলেন, "তার বাবা ভীষণ অসুস্থ। তাকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। মধ্যরাতে দলীয় মতবিনিময় সভায় গিয়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।"

এই বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হককে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, জেলা বিএনপির মতবিনিময় সভায় উত্তেজনা হয়েছিল। তবে কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা তারা জানেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত দেখতে পায়। তিনি আরও জানান, "ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকারে হামিদুল নামে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।"