১১ হাজার কোটি টাকা মানে ১,১০,০০,০০,০০,০০০ টাকা। অর্থাৎ ১১০ বিলিয়ন টাকা। বর্তমান বিনিময় হারে এটি প্রায় ৮৯ কোটি ডলারের সমান। এই বিশাল অঙ্কটি কতটা বড়, তা ধামা দিয়ে মাপা বা ওজন করা যায় না; বরং নোটের সংখ্যা দিয়ে গণনা করতে হয়। ১০০০ টাকার নোট ধরলে এর জন্য লাগবে ১১ কোটিখানা নোট। এমন পরিমাণ নোট একটা ট্রাকেও ধরে না, দুইটা ট্রাকেও ধরে না। এত নোট একসঙ্গে দেখলে মনে হবে—এটা টাকা নয়, কোনো নদীর চর।
এবার হিসাবটা গ্রামের সাথে তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। একটা ভালো খাসি আজকাল ২০ হাজার টাকার কম দামে পাওয়া যায় না। ১১ হাজার কোটি টাকায় কিনতে পারবেন ৫৫ লাখ খাসি। ৫৫ লাখ খাসি একসঙ্গে দাঁড় করালে সারা বাংলাদেশের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ঈদের আগে খাসি ব্যবসায়ীরা স্বপ্নেও এমন হিসাব দেখে না। এত খাসি জবাই করলে দেশে এক সপ্তাহ মাংসের গন্ধ ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যাবে না। আর যদি সব খাসি বেঁচে থাকে, তাহলে তারা নিজেরাই একটা নতুন রাজনৈতিক দল খুলে ফেলতে পারে।
এবার আসা যাক হাঁসের মাংসের হিসাবে। এক প্লেট হাঁসের মাংস ধরা যাক ৪০০ টাকা। ১১ হাজার কোটি টাকায় হবে ২৭ কোটি ৫০ লাখ প্লেট হাঁসের মাংস। ২৭ কোটি প্লেট মানে, ঢাকার সব রেস্তোরাঁ একসঙ্গে এক মাস ধরে শুধু হাঁস রান্না করলেও শেষ হবে না। হাঁসগুলো শুনলে নিশ্চয়ই পটল তুলবে। কারণ, এত হাঁস বাংলাদেশে নেই। পৃথিবীতেও নেই। হয়তো চাঁদে পাঠাতে হবে হাঁস চাষের জন্য।
এক প্লেট কাচ্চি বিরিয়ানি ৮০০ টাকা ধরলে হবে প্রায় ১৩ কোটি ৭৫ লাখ প্লেট। পুরান ঢাকার সব কাচ্চির দোকান একসঙ্গে খুললেও এই অর্ডার নিতে পারবে না। দোকানদাররা বলবে, স্যার, আপনি কি পুরো ঢাকা শহরকেই খাওয়াতে চান?
একটা সাধারণ ফ্ল্যাট ঢাকায় ১ কোটি টাকা ধরলে হবে ১১ হাজার ফ্ল্যাট। ১১ হাজার ফ্ল্যাট মানে একটা ছোট শহর। নাম দেওয়া যায়—পাচারনগর।
এবার একটু শহরে ওঠা যাক। ওয়েস্টিনের ডিনার ধরা যাক জনপ্রতি ৯ হাজার টাকা। ১১ হাজার কোটি টাকায় ডিনার করা যাবে ১ কোটি ২২ লাখ বার। অর্থাৎ একজন মানুষ যদি প্রতিদিন ওয়েস্টিনে খান, তাহলে লাগবে ৩৭৪ হাজার বছর। ডায়নোসরের আমল থেকে আজ পর্যন্ত ইতিহাস শেষ হয়ে যাবে, তবু ডিনার শেষ হবে না। হোটেলের ম্যানেজার শুনলে বলবেন, স্যার, টেবিল খালি নেই। আসলে টেবিল খালি নেই না। পৃথিবীতে এত দিন নেই।
১ কোটি ২২ লাখ বার চামচ তুললে হাত ব্যথা করবে। পেট ফেটে যাবে। শেফ পালিয়ে যাবে। লিফটও হাঁপিয়ে উঠবে। এত বড় অঙ্ক শুনলে মাথা ঘুরে যায়। তাই মানুষ প্রশ্ন করে, টাকা কি ধামা দিয়ে মাপে? না ভাই, ধামা দিয়ে মাপে না। ধামা তো ধান মাপার জিনিস। এত টাকা ধামায় ভরলে ধামা ফেটে যাবে। মাপার যন্ত্রও ফেটে যাবে। হিসাবের খাতাও ফেটে যাবে।
শেষমেশ যা থাকে, তা হলো একটা বড় সংখ্যা আর একটা বড় প্রশ্ন। এত টাকা যদি সত্যিই কোথাও যায়, তাহলে সেখানে কি খাসি চরে? নাকি হাঁস সাঁতার কাটে? নাকি ওয়েস্টিনের প্লেট উড়ে বেড়ায় বাতাসে? হিসাবটা এখানেই থামানো ভালো। আর হিসাব করলে দেশের সব খাসি শেষ হবে। হাঁস শেষ হবে। ওয়েস্টিনের মেনু শেষ হবে। শুধু সংখ্যাটা থেকে যাবে—একা, বিশাল, আর একটু হাস্যকর।