সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস এলাকায় উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে এক বহিরাগত যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে ওই যুবককে থানায় সোপর্দ করা হয়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম আনারুল মিয়া (২৭)। তাঁর বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকায় থাকেন এবং সিলেটে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি নগরীর একটি বাসায় টিউশনি শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গাড়ি না পেয়ে হেঁটে ফেরার পথে আনারুল মোটরসাইকেলে তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে তিনি ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর চান এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেন। এ সময় তিনি অশালীন কথাবার্তা ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন।
এ বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ করেন। সহপাঠীরা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আনারুলকে আটক করেন এবং প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। আনারুল মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী জানান, রাত ১১টার দিকে তাঁর বন্ধু কান্না করে জানান যে একজন মোটরসাইকেল চালক তাঁকে শিস মারছে ও উত্ত্যক্ত করছে। এরপর তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছালে দেখেন হলের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই বাইকারকে ধরে রেখেছেন। পরে তাঁকে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।
আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফারুক মিয়া বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া শুরু করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব।