বাংলাদেশে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও যান, কী খান বা খান কিভাবে, চাকরি ও বেতনের বিবরণ, চাকরি পাওয়ার পদ্ধতি, প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে বা সন্তান নেওয়া-নেওয়া না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের তথ্য আপনার আত্মীয়দের কাছে জানাজানি থাকে। শুধু তাই নয়, তারা এই গোপন তথ্যগুলোকে গল্পের আসরে পরিণত করে ফেলেন। তথ্য ফাঁসের এই ধারা একপ্রকার ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। আপনি বিরক্ত হোন বা হতাশ, বাংলাদেশে নিজের প্রাইভেসি রক্ষা করার কোনো উপায় নেই বলে মনে হচ্ছে।

তবে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এই বিষয়ক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নিজের মোবাইল ফোনের ফাঁস হওয়া তথ্য দেখে একজন মন্ত্রী অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, "এটা কীভাবে সম্ভব!"

খবরটি হলো— দেশের মানুষ মোবাইল ফোনে কার সাথে কথা বলেন, কী বার্তা পাঠান এবং কোথায় কোথায় যান, এসব তথ্য টাকা দিয়ে কেনা যায়। এমনকি নাম নিবন্ধন করে একটি ওয়েবসাইট চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

৬ সেপ্টেম্বর একজন মন্ত্রীর নম্বর সংগ্রহকারীদের কাছে পাঠানো হয় এবং তাদের দাবিকৃত টাকাও পরিশোধ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সেই মন্ত্রীর মোবাইলের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) পাওয়া যায়। CDR-এ মন্ত্রীর তিন মাসের মধ্যে কার সাথে কত সময় কথা বলেছেন, কখন কথা বলেছেন এবং কথা বলার সময় তিনি কোথায় অবস্থান করছিলেন—এরকম নানা গোপন তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

CDR-এর সত্যতা যাচাই করতে ৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রীর দপ্তরে গেলে, তিনি নিজের মোবাইল ফোন বের করে CDR-এর তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখেন। এরপর অবাক হয়ে তিনি বলেন, "এটা কীভাবে সম্ভব! তাহলে তো কেউ নিরাপদ নয়।" [মুক্তকণ্ঠ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬]

এই পরিস্থিতিতে, যখন একজন মন্ত্রী তথ্য ফাঁসের ঘটনায় এতটা অবাক হয়ে "এটা কীভাবে সম্ভব" বলছেন, তখন সাধারণ মানুষের জন্য আর কী করা সম্ভব? আপনি যদি কোনো আত্মীয় আপনার তথ্য জেনে ফেলে এবং বিরক্ত হন, তবে মন্ত্রীর মতো আকাশ থেকে পড়ার ভান করে দশবার "আয়হায়, এইটা কেমনে সম্ভব!" বলুন। দেখবেন, এতে আপনার মানসিক শান্তি ফিরে পাবে।