আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, "আমরা সবাই চাই, আপনারা ভালোভাবে দেশ শাসন করেন। অথচ আপনারা জনগণের ওপর দুঃশাসন, কষ্ট ও ভোগান্তি চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন।" তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দেশকে অস্থিতিশীল করে আবারও আওয়ামী লীগের একটি রিফাইন ভার্সনকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের সাম্প্রতিক চাকরি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনগুলোকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেন তিনি। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রায় ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে।
ফুয়াদ জানান, সাধারণত নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান থাকে না। মৌখিক পরীক্ষার নম্বর তুলনামূলক কম থাকে- ১০, ১৫, ২০ বা ২৫ শতাংশের মতো। কিন্তু এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রায় সমান করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে হয়। কিন্তু এই পরীক্ষা দেখভালের জন্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর অধীনে আবার একটি কমিটি করা হয়েছে।
নতুন করে লাখ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পরিকল্পনা এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন ও বাড়ানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আসলে কী করতে চাচ্ছে সরকার? দলীয় নিয়োগ দেবে? উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে যে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, এখানে সরকারকে কেন লাগবে?
বর্তমান প্রেক্ষাপটে চাকরিতে নিয়োগের বিষয়ে ফুয়াদ বলেন, সব মিলিয়ে আসলে সরকার চাকরিতে বৈষম্যের যে লড়াই, সেটাকে কি বুঝতে পারছেন? সবকিছু কি এত অল্প সময়ের মধ্যে ভুলে গেছেন? কোটা আন্দোলন, চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার যে গ্যারান্টি ও নিশ্চয়তা—সেগুলো প্রতিটি জায়গায় হেয় করা ও ছোট করার চেষ্টা কেন করছে সরকার? এর কোনো যৌক্তিকতা আছে কি?
সরকারের উদ্দেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যে বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকা একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়েছে। সেই সরকারকে বদলানোর পর যারা নতুন করে এসেছেন, তারা এত সহজেই কোটা বিরোধী আন্দোলনের কথা ভুলে গেলেন? এত রক্তাক্ত আন্দোলন কেন হলো, এত কিছু কেন হলো?
তিনি আরও বলেন, এই জিনিসগুলো আমাদের খুব আশ্চর্য করছে। তাই আমরা সরকারকে বলছি, দয়া করে এসব দুষ্টামিতে পা দিয়েন না। এগুলো কাজ করবে না। বরং তরুণ, চাকরিজীবী ও বেকার লাখ লাখ যুবক ক্ষুব্ধ হবে এবং তারা মাঠে নেমে লড়াই করতে আসবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আপনার সরকারের দেশ চালানো কঠিন হয়ে যাবে।