বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনায় আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের চার স্বতন্ত্র পরিচালক আজ রোববার পদত্যাগ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে পাঁচজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চারজন এই পদত্যাগ করেন।

পদত্যাগকারী পরিচালকরা হলেন—মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আবদুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ এবং মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। তাঁদের কেউ সাবেক ব্যাংকার, হিসাববিদ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। পদত্যাগ করা একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাঁদের পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এরপরই তাঁরা পদত্যাগ করেন।"

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে স্বতন্ত্র পরিচালক সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। সেই অনুযায়ী একজন স্বতন্ত্র পরিচালক রেখে বাকি চারজনকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টের পর ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বতন্ত্র পরিচালকদের সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ব্যাংকটিতে নিরীক্ষা করা হয়, যাতে বিভিন্ন অনিয়ম উঠে আসে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর মালিকানাধীন দুটি পক্ষ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর হয়। এরপর কেডিএস গ্রুপ ব্যাংকের পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ তাদের শেয়ারের বিপরীতে পরিচালক পদ দাবি করে।

গত জুলাইয়ে ব্যাংকের পুরোনো ১৪ জন শেয়ারধারীকে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান। আর নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম ও কেডিএস গ্রুপ মিলে ব্যাংকটি পরিচালনা করেছিল। বিএনপি সরকার গঠনের ব্যাংকটি পরিচালনায় কেডিএস গ্রুপের প্রভাব বেড়েছে। এখন স্বতন্ত্র পরিচালক সরিয়ে নেওয়ায় ব্যাংকটি পরিচালনায় পুরো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কেডিএস গ্রুপের।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আর্থিক খাতের বিতর্কিত ব্যক্তি ব্যক্তি সাইফুল আলম বা এস আলমের ভাই আবদুস সামাদ লাবু ও কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান। এস আলম গ্রুপ ও কেডিএস গ্রুপ দুটির মালিকপক্ষ চট্টগ্রামের পটিয়ার।