রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ) নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও শিক্ষা খাতের ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করেছে। এই তালিকায় সাবেক সাংসদ ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, অভিনেত্রী জয়া আহসান, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, সাবেক সাংসদ ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ এবং সাংবাদিক মুন্নী সাহার মতো নামগোচর ব্যক্তিবর্গ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসডিএফ সভাপতি আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন জমা দেন। আবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়, সম্পদ, ব্যাংক লেনদেন, সরকারি অনুদান এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের তথ্য যাচাইয়ের জন্য তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদন গ্রহণ শেষে দুদক সচিব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এসময় আ ন ম আয়াস জানান, তালিকায় বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ৫০ জন, গণমাধ্যমের ১১ জন, ক্রীড়াঙ্গনের ৬ জন এবং শিক্ষাঙ্গনের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদসহ মোট ২৪ জনের নাম রয়েছে। তবে বিস্তারিত তালিকায় শিক্ষাখাতের আরও বেশ কয়েকজন নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের আবেদনে বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন, সরকারি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বৈধ আয়ের সাথে তাদের দৃশ্যমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য আছে কি না, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, সরকারি অনুদান এবং প্রকল্পের অর্থের ব্যবহার খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কেউ কেউ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বা সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থায়ন, সহযোগিতা বা অন্য কোনো সুবিধা দিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন আবেদনকারীরা।
বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ৫০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রিয়াজ আহমেদ, জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী, অরুণা বিশ্বাস, শমী কায়সার, সুবর্ণা মুস্তাফা, রোকেয়া প্রাচী, মাহিয়া মাহি, নিপুণ আক্তার, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, পিয়া জান্নাতুল, সাইমন সাদিক, জায়েদ খান, আসাদুজ্জামান নূর, মারিয়া কিসপট্রা, তারানা হালিম, স্বাধীন খসরু, লিয়াকত আলী লাকি, মামুনুর রশীদ এবং লিমন আহমেদ (বিনোদন সাংবাদিক)।
গণমাধ্যম খাতের ১১ জনের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান, মুন্নী সাহা, সুভাষ সিংহ রায়, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, আহমেদ জোবায়ের, নাসিমা খান মন্টি, প্রণব সাহা, জহিরুল ইসলাম মামুন, আশরাফুল আলম খোকন, সোমা ইসলাম এবং মানজুরুল ইসলাম পান্না।
ক্রীড়াঙ্গনের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কাজী নাবিল আহমেদ, আরিফ খান জয় এবং বাফুফের সাবেক সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দীনের নাম রয়েছে।
শিক্ষাখাতের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মাকসুদ কামাল, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর গোলাম রব্বানী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. সুধাংশু শেখর গায়েন এবং বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দে’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে।