রাষ্ট্রসংলাপ ফোরামের (এসডিএফ) নবনির্বাচিত সভাপতি আ ন ম আয়াস স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত সদস্য বা যেকোনো জুলাই যোদ্ধার ওপর নিষিদ্ধ লীগ যদি হামলার চেষ্টা করে, তবে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে তার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রংপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সম্প্রতি সংগঠনটি শহীদ আবু সাঈদকে এর আজীবন মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এসময় এসডিএফ সভাপতি সরকার ও জনগণের কাছে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আমাদের প্রত্যাশা— জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যক্রম শুরু করা হোক। একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আমাদের দাবি— শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।"

আ ন ম আয়াস আরও জানান, "সরকারকে মনে রাখতে হবে, প্রায় দুই হাজার শহীদ পরিবার এবং ৩০ হাজারের অধিক আহত ভাই-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের স্বপ্নের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের অঙ্গীকার।"

কর্মসূচিতে উপস্থিত এসডিএফ নেতারা শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগকে চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলে অভিহিত করেন। তারা জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের নির্মাণকাম্য ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়েই আগামীতে সংগঠনটি কাজ চালিয়ে যাবে।

কবরে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা। অনুষ্ঠানে সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন ফরাজি, সহ-মুখপাত্র শারমিন আক্তার, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন, কেন্দ্রীয় সংগঠক মারিয়ম মোকাদ্দাস মিস্টি, আব্দুল আউয়াল রিদয়, শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসাইন, প্রভাষক জাকারিয়া, অ্যাডভোকেট ছমির উদ্দিন সরকার, মো. লুৎফর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।