ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার অমৃতপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের স্ত্রী তাসমিনা আক্তার নামে এক গৃহিণীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চলতি বছরে ওই হাসপাতালে ডেঙ্গুজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান।

তিনি জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় তাসমিনা আক্তারকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তীব্র কিডনি অকার্যকারিতা ও ইউরেমিক এনসেফালোপ্যাথির কারণে তার মৃত্যু ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ১৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৩ জন পুরুষ, ৪৬ জন নারী এবং ৭ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ জন রোগী ভর্তি হলেও ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৭ জন।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত মমেক হাসপাতালে মোট ২ হাজার ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২ হাজার ৯৪৮ জন রোগী।

এদিকে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, "সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে নাগরিকদের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বাড়ির ছাদ, টব, ফুলের পাত্রসহ আশপাশের কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।"