সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার। সকাল সাতটার পরপরই রাজধানীর রাস্তায় নামেন কর্মস্থলগামী মানুষ। এই সময়ে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি হয়। ঠিক এই সময়টাতেই রাজধানীতে শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। যাদের নিজস্ব পরিবহন সুবিধা আছে, তাদের জন্য ভোগান্তির মাত্রা কম হলেও, যারা রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অন্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য এটি ছিল প্রাণান্তকর চেষ্টার দিন।
রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সকাল পৌনে আটটার দিকে দেখা যায় সেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। রিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে ছাতা মাথায় নিয়ে কষ্টে পায়ে হেঁটেই স্কুলে পৌঁছাতে হয়েছিল অনেককে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সকাল সোয়া আটটার দিকে বৃষ্টি থামলে আবহাওয়া পরিষ্কার হয় এবং ঝলমলে রোদ ওঠে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে রাজধানীতে ১৪ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, সকাল ৬টা থেকে ৯টা—এই তিন ঘণ্টার মধ্যে ১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তিনি আজ সকালে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সকাল ৬টা থেকে ৯টা—এই তিন ঘণ্টার মধ্যে ১৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে তা খুব বেশি না–ও হতে পারে।"
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওমর ফারুক বলছিলেন, "বৃষ্টি বেশি হতে পারে দেশের উত্তরাঞ্চলেও। তবে তা ভারী বৃষ্টি হবে না। একনাগাড়েও হবে না। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এসব এলাকায়।"
এই সময়ের বৈশিষ্ট্য হলো মেঘলা আকাশ ও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি হলেও গরম কমছে না। ভ্যাপসা গরম শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই বিরাজ করছে।