শেয়ারবাজারে দ্রুতই ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারনির্ভর লেনদেন দেখা যাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এমডি ও সিইও শহীদুল ইসলাম। গত কয়েক মাস ধরে বাজারের গতিপ্রকৃতি, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শহীদুল ইসলাম বলেন, "গত কয়েক মাস আমরা শেয়ারের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও কম মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের র্যালি বা উত্থান দেখেছি। যদিও অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের সঙ্গে এসব শেয়ারের উত্থান-পতনের যৌক্তিক কোনো যোগসূত্র যদিও নেই। তারপরও স্বল্পমেয়াদি মুনাফার প্রবণতা থেকে এ ধরনের কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহ আমরা দেখেছি। তাতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল মানের অনেক কোম্পানির শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।"
তিনি জানান, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, দীর্ঘদিন একই ধরনের শেয়ারের দামের উত্থান স্থায়ী হয় না। বিশেষ করে দুর্বল মানের কোম্পানিগুলোর দাম সাময়িক সময়ের জন্য বাড়লেও একটি পর্যায়ে এসে সেগুলোর দরপতন হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়। বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, সে সময় এখন খুবই সন্নিকটে। তার বদলে আগামী কিছুদিনের শেয়ারবাজার হবে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিনির্ভর।
বাজার ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারনির্ভর হওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেন তিনি। এর প্রথম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে ব্যাংক খাতে ভালো ভালো ব্যাংকগুলোয় স্থায়ী আমানতের সুদহার বেশ কমে গেছে। সামনে এ সুদহার আরও কমার ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি বন্ডের সুদহারও এখন কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গতিও স্থবির। এ অবস্থায় শেয়ারবাজারই বিনিয়োগের ভালো বিকল্প উৎস হয়ে উঠছে। উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী, যাদের বড় অংশই এখন শেয়ারবাজারমুখী হচ্ছেন। বড়, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পোদ্যোক্তারা যখন বাজারে আসেন, তখন ভালো শেয়ারের চাহিদা তৈরি হয় বাজারে।
আগামী কিছুদিনের মধ্যে জুনে সমাপ্ত আর্থিক বছরের লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করবে বেশির ভাগ কোম্পানি। যেসব কোম্পানি ঐতিহাসিকভাবে ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে, সেসব কোম্পানির শেয়ারের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক ও উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। যার ইতিবাচক প্রভাব এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম পড়বেই। শহীদুল ইসলাম বলেন, "অনেক দিন ধরে আমাদের বাজারে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক অবমূল্যায়িত অবস্থায় রয়েছে। তাই এসব শেয়ার ঘুরে দাঁড়াবেই।"
এরই মধ্যে রিটার্ন জমার সময় শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরের বাজেটে ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ আয়ের ক্ষেত্রে সরকার ১৫ শতাংশ কর-চূড়ান্ত দায় হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমরা যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত তারা এ সুবিধার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ছাড় সুবিধা পাচ্ছি। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। আমাদের শেয়ারবাজারে এমন বেশ কিছু ভালো কোম্পানি রয়েছে। এসব উদ্যোক্তার হাতে ওই কোম্পানির ভালো অঙ্কের শেয়ার রয়েছে। এসব উদ্যোক্তারা যে লভ্যাংশ পান, সেই লভ্যাংশের বিপরীতে তাঁদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর সাশ্রয় হবে। ফলে তাঁরা নিজেদের কোম্পানি বা ভালো লভ্যাংশ দেয় এ রকম কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগে আরও বেশি আগ্রহী হবেন। এসব কারণে আমার মনে হচ্ছে যে খুব দ্রুত আমরা শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির শেয়ারের উত্থান দেখতে পাব।