টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুটি দলের ২৭ ব্যাটসম্যান মিলে ১১২টি ইনিংস খেলেছেন এবং ২৪৬০ রান করেছেন, কিন্তু কোনো ব্যাটসম্যানই একবারও তিন অঙ্কের সংখ্যা ছুঁতে পারেননি। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া তিন টেস্টের সিরিজটিতে মোট ২০টি ফিফটি হয়েছে, যা বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।

সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি না করলে সিরিজকে ভালো বলে মনে করা হয় না। তবে এই সিরিজে সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে রান ও ফিফটির নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ইতিহাসে এত বেশি রান ও ফিফটি থাকা সত্ত্বেও কোনো সেঞ্চুরি না হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান হয়েছে এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে। এই ম্যাচে দুই দলই একবার করে চার শতাধিক রান তুলেছিল, যার ফলে ম্যাচে মোট রান দাঁড়িয়েছে ১১৬৫। এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ৭টি এবং পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা ৪টি ফিফটি করেছিলেন। অর্থাৎ, সিরিজের মোট ফিফটির অর্ধেকের বেশি হয়েছিল এই এক ম্যাচেই।

সিরিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের হয়ে সৌদ শাকিল করেন ৯৭ রান। সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়া অন্যতম ইনিংসটিও ছিল এক পাকিস্তানির—তৃতীয় টেস্টে শান মাসুদের ৯৫ রান। ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯১ রান করেন হ্যারি ব্রুক, যা হেডিংলিতে সম্ভব হয়েছিল।

এই সিরিজটি ভেঙে দিয়েছে ৩৩ বছরের পুরোনো রেকর্ড। ১৯৯৩ সালে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সিরিজে মোট ২২১৩ রান ও ১৮টি ফিফটি হয়েছিল, কিন্তু সেখানেও সেঞ্চুরি ছিল না।

তিন দশক পরে এই সিরিজের তাৎপর্য বুঝতে হলে তালিকার পরের সিরিজগুলোর দিকে তাকানো যায়। ২০০১ সালের ভারত ও জিম্বাবুয়ের সিরিজ ১৮২১ রান ও ১৩টি ফিফটি নিয়ে সেঞ্চুরিহীন সিরিজের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে।