ক্ষুদ্রঋণ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি লক্ষ্য করে যশোরে আয়োজিত দিনব্যাপী চাকরি মেলায় ১ হাজার ১১৫ জন প্রার্থীকে তাৎক্ষণিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) উদ্যোগে শনিবার যশোর পিটিআই প্রাঙ্গণে এই মেলা ও ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় যশোর ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে প্রায় ১০ হাজার চাকরিপ্রার্থী উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন পদে মোট ৩৩ হাজার জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ), শিশু নিলয়, আদ-দ্বীন, আর্স বাংলাদেশ, সিও, সিএসএস, সাস, উত্তরণসহ যশোর ও খুলনা অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এতে অংশ নেয়।

আয়োজকরা জানান, জমা পড়া বিপুল সংখ্যক সিভি থেকে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গণেই বাছাই এবং তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে ঋণ কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, শাখা ব্যবস্থাপকসহ নানা পদে ১ হাজার ১১৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে যাঁরা তাৎক্ষণিক নিয়োগ পাননি, তাঁদের জন্যও সুযোগ রয়েছে। এমআরএ জানিয়েছে, সংগৃহীত অবশিষ্ট জীবনবৃত্তান্ত ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও তিন হাজার যোগ্য প্রার্থীকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

হিসাব কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পাওয়া যশোর শহরের বারান্দিপাড়া কদমতলা এলাকার বাসিন্দা মুন্নি খাতুন বলেন, ‘চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে বাড়িতে চলে যাই। বেলা আড়াইটার দিকে সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন দিয়ে আমাকে নিয়োগপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। আমি বিস্মিত হয়ে আবার চাকরি মেলায় গেলাম এবং নিয়োগপত্র হাতে পেলাম। হিসাব কর্মকর্তা পদে শিক্ষানবিশ অবস্থায় ৩৪ হাজার ও স্থায়ী হয়ে গেলে ৩৯ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সকালে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এমআরএ-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুবসমাজ। প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের যে স্কিল মিসম্যাচ (দক্ষতার অসামঞ্জস্যতা) রয়েছে, তা দূর করে বাজারমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রী তরুণদের শুধু চাকরি না খুঁজে নিজেদের দক্ষতাকে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এমআরএ-এর নির্বাহী পরিচালক নূরে আলম মেহেদী স্বাগত বক্তব্যে জানান, দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাতে বর্তমানে সনদে পরিচালিত ৬৩৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ হাজার শাখার মাধ্যমে বিশাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কর্মী নিয়োজিত আছেন, এর বড় একটি অংশ নারী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন প্রমুখ।