জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার যদি দেশের ও জাতির প্রয়োজনে সহযোগিতা চায়, তবে বিরোধী দল হিসেবে তারা পাশে থাকবে। তিনি বলেন, "সহযোগিতা হবে চোখ খুলে, বিরোধিতা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।"

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ভালো নেই—এ বিষয়ে সবাই একমত, এমনকি সরকারও তা স্বীকার করতে বাধ্য। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেশ মহাসংকটের মুখে রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, একটি ভালো দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, বিরোধী দলেরও রয়েছে এবং উভয় পক্ষকে মিলেই দেশ গড়তে হবে।

সরকারের সহযোগিতার আহ্বানের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের ও জাতির প্রয়োজনে সরকার সহযোগিতা চাইলে তারা সব সময় প্রস্তুত। সরকার সুযোগ দিলে বিরোধী দল হিসেবে ন্যায্য অবদান রাখার পক্ষে তারা রয়েছেন।

জামায়াত আমির আরও জানান, ৬টি জনদাবি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় দফায় রাজপথে নেমেছে। প্রথম দফায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ করা হয়েছিল। সেটি শেষ হওয়ার পর গত ৫ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, তাদের কোনো দলীয় দাবি নেই, এগুলো জনদাবি।

প্রথম দফার কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্মসূচিগুলো নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল ছিল। হৈ-হুল্লোড়, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে দেশের কোনো ক্ষতি করতে তারা চান না।

"আমরা জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। তাহলে জনগণের ক্ষতি করব কেন?" প্রশ্ন করে ডা. শফিকুর রহমান জনগণকে সম্পৃক্ত করে দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা জানান। তার আশা, সরকার একসময় এসব দাবি বিবেচনায় নিতে বাধ্য হবে এবং বিষয়গুলোর সমাধানের পথ বের করবে।

জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা সভাপতি কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি কামরুল হাসান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।