এজবাস্টন টেস্টে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। শনিবার চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের লক্ষ্য ২৪.২ ওভারে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জো রুট ও জর্ডান কক্সের অপরাজিত ফিফটিতে জয়ের পথ সহজ হয়। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে পাকিস্তানের মাটিতে তাদের ধবলধোলাই করেছিল ইংলিশরা।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য পাকিস্তানই এগিয়ে ছিল। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জবাবে ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান করে। হ্যারি ব্রুকের ৭৫, জেমি স্মিথের ৬৯ ও ড্যান লরেন্সের ৬৫ রানে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়ায় ৩২০ রানে। অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ নেন চার উইকেট।

বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান। শান মাসুদ ৯৫, বাবর আজম ৭৬ ও আজান আওয়াইস ৫৯ রান করেন। এরপর নিচের সারিতে ঝড় তোলেন রাজাউল্লাহ। নয় ছক্কায় ৬৩ বলে ৮১ রান করেন এই অভিষিক্ত পেসার। মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে নবম উইকেটে তাঁর ১২১ রানের জুটিই পাকিস্তানকে ইনিংস হার থেকে বাঁচিয়েছিল। আব্বাস করেন ৪২ রান।

এরপর লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে হারায় ইংল্যান্ড। প্রথম বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন বেন ডাকেট। উইকেটরক্ষক গাজী ঘোরির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। একই ওভারের শেষ বলে এমিলিও গেকে এলবিডব্লিউ করেন আব্বাস। দুই ওপেনারই শূন্য রানে ফেরায় ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২।

সেখান থেকে রুট ও কক্স মিলে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রান যোগ করেন। অধিনায়ক রুট ৬৯ বলে ৯ চারে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। কক্সের অপরাজিত ৫৯ রান আসে ৭৬ বলে, তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার। জয়সূচক রানটিও নেন কক্স।

পাকিস্তান অবশ্য এই জুটি ভাঙার সুযোগ পেয়েছিল। মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হয়েও নো বলের কারণে বেঁচে যান রুট। পরে আব্বাসের বলে তাঁর ব্যাটের কানায় লাগা বল দুই স্লিপ ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে চলে যায়। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

ব্যাট হাতে ৬৫ রানের পাশাপাশি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন লরেন্স। সিরিজে ২১ উইকেট নেওয়া অলি রবিনসন ইংল্যান্ডের পক্ষে সিরিজসেরা হয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন আব্বাস।