বগুড়ার শেরপুরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম সম্রাটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে, সম্রাটের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল ওই প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল রাফাত তরিকুল ইসলাম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মচারীদের হুমকি দেন। তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও প্রবাসী আব্দুল মান্নানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল এবং শেরপুরে ব্যবসা করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মদদে ৫০ থেকে ৬০ জন ওই প্রতিষ্ঠানে ঢুকে হামলা চালায়। তারা কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি মালিক আব্দুল মান্নান ও তার সন্তানদের খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কর্মচারীদের শাসাতে দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া টেবিলে থাকা নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে এজাহারে।
অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল রাফাত, যিনি শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, বলেন, "আমাদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটবে, তা কখনো ভাবিনি। চাঁদা না দেওয়ায় সম্রাটের লোকজন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।"
রাফাতের আরও অভিযোগ, যুবদলের নাম ব্যবহার করে সম্রাট সরকারি অধিগ্রহণ করা জায়গা দখল করে ভাড়া-বাণিজ্য চালাচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার বাবা আব্দুল মান্নান একজন ব্যবসায়ী ও প্রবাসী; এই ঘটনায় তারা আতঙ্কিত বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে তরিকুল ইসলাম সম্রাটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানান, "ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বৃহস্পতিবার রাতেই এ ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"