নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে সদ্যোজাত এক ছেলেশিশুকে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শিশুটির মা, নানি, এক প্রবীণ নারী ও অটোরিকশার চালককে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে ডাস্টবিন থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে মা ও শিশুকে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক চারজনের মধ্যে নবজাতকের মা একজন কিশোরী। অন্য তিনজন হলেন শিশুটির নানি (৩৫), এক নারী (৬০) ও অটোরিকশার চালক (৩৫)। কিশোরী মাকে শিশুটির সঙ্গে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক জটিলতা নিয়ে কিশোরীকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছিল। পথে অটোরিকশার ভেতরেই শিশুটির জন্ম হয়।

অভিযোগ উঠেছে, শিশুটির জন্মের পর অটোরিকশাটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে সামনের একটি ডাস্টবিনের কাছে থামানো হয়। সেখানে শিশুটিকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পান। পরে তাঁরা অটোরিকশাটির গতিরোধ করে শিশুটিকে ডাস্টবিন থেকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে অটোরিকশায় থাকা চারজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে ওই সন্তানের দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছিলেন না শিশুটির বাবা। মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশায় শিশুটির জন্ম হয়। তখন তাঁরা নবজাতককে পাশের একটি ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন তাঁদের আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির দায়িত্বে নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠায়।’

ওসি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি এ ঘটনায় এর আগে থানায় কোনো প্রতিকার চায়নি। আইনি সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তা দিতে পারত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রাজিব উদ্দিন চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে কোনো নবজাতক শিশুকে জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়নি।