চীনের মোকিতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র এশিয়া কাপের পঞ্চম থেকে অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জাপানের কাছে ৬-২ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এই হারের ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র হকি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙে গেছে লাল-সবুজ যুবদলের।
শুক্রবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেছিল জাপান। প্রথম কোয়ার্টারেই ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা এবং সময়ের সাথে সাথে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেরা হাতে নিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ; দুই গোল ফিরিয়ে আনলেও ততক্ষণে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত আরও দুই গোল করে ৬-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে জাপান।
এই ম্যাচটি কার্যত ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ফাইনাল। জুনিয়র এশিয়া কাপের শীর্ষ ছয় দল আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। জাপানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে উঠে অন্তত ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ হারিয়ে এখন মওদুদুর রহমান শুভর দলকে সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে।
এবারের আসরে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক চীনের কাছে ৩-২ গোলে হার দিয়ে শুরু হয় তাদের অভিযান। এরপর মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হারে। তৃতীয় ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৪-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের আশা বাঁচিয়ে রাখে বাংলাদেশ। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করে তারা। ফলে বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য জাপানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোর কঠিন সমীকরণ সামনে আসে, যা আর পেরোতে পারেনি তারা।
হতাশাটা আরও বেশি, কারণ মাত্র এক বছর আগেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশের এই বয়সভিত্তিক দল। ২০২৪ জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম হয়ে প্রথমবারের মতো ২০২৫ জুনিয়র বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া, ওমান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্সের পর ১৭তম হয়ে চ্যালেঞ্জার ট্রফিও জিতেছিল লাল-সবুজরা। এবার সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরেকটি বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু এশিয়া কাপের পাঁচ ম্যাচে চার হারেই থেমে গেল সেই স্বপ্ন।