দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত মোট ১৩৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে) আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ রোগী।

মৃতদের মধ্যে দুজন খুলনা বিভাগে এবং বাকি চারজন ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগভিত্তিক নতুন রোগীর সংখ্যা হলো: ঢাকায় ৫৫৯, খুলনায় ২৮৪, চট্টগ্রামে ২০২, বরিশালে ১৭৮, রাজশাহীতে ১২২, ময়মনসিংহে ৮০, রংপুরে ৫৪ এবং সিলেটে ১৩ জন।

এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৪৮ হাজার ৪৩০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৫৭ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ক্রমাগত বাড়ছে। মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সংক্রমণ তিন গুণ বেড়েছে। জুলাই মাসেও সংক্রমণ জুন মাসের তুলনায় প্রায় তিন গুণ এবং মৃত্যু তিন গুণের কাছাকাছি বেড়েছে। আগস্ট মাসে সংক্রমণ দ্বিগুণের বেশি এবং মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইইডিসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, এবার ডেন-৩ ধরনের ভাইরাস প্রধান হয়ে উঠলেও ডেন-২ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। কিছু এলাকায় ডেন-৩ এবং গ্রামাঞ্চলে ডেন-২ বেশি পাওয়া যাচ্ছে, যা সরকার ‘মিশ্র চিত্র’ হিসেবে দেখছে।

২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর বড় প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। ২০১৯ সালে সংক্রমণ প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়লেও, ২০২৩ সালে সব রেকর্ড ভেঙে যায়। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ভর্তি হলে ১ হাজার ৭০৫ জন মারা যান। সাধারণত বড় প্রাদুর্ভাবের পর প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হওয়ায় পরপরই একই মাত্রার ঢেউ আসে না; তাই ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সংক্রমণ ওই রেকর্ড ছাড়েনি। তবে এ বছরের প্রথম কয়েক মাসে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও জুলাই থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে।