যশোরের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম একাডেমির সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা ২৬ বছরের কর্মজীবন শেষ করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একটি ফুলে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছেন। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও শুভকামনার পর এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা স্মারক, উপহার এবং ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদ্যালয় থেকে রওনা হওয়ার সময় পাশে ছিলেন তাঁর প্রিয় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের সঙ্গী প্রতিষ্ঠান ও মানুষদের কাছ থেকে এমন আবেগঘন বিদায় পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা বলেন, "মুসলিম একাডেমি আমার কাছে শুধু একটি কর্মস্থল নয়, এটি আমার জীবনের একটি বড় অংশ। দীর্ঘ ২৬ বছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ের প্রতিটি দিন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ এবং প্রিয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকবে।"

২০০০ সালের ১১ মে তিনি মুসলিম একাডেমিতে যোগ দেন। দীর্ঘ এই পথচলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে গত ৩০ জুলাই। বৃহস্পতিবার তাকে সংবর্ধনা জানানো হয়।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুসলিম একাডেমির প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষ। বক্তব্যে শিক্ষক ও অন্যান্য বক্তারা জাহাঙ্গীর আলম মোল্যার দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না; তার চিন্তা, আদর্শ ও আচরণ শিক্ষার্থীদের জীবন গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সেই দায়িত্বই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। তার জ্ঞান, আদর্শ ও নিবেদন শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।