সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভবনের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ভ্রূণসহ স্বামী ও স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে ওই যুবক তাঁদের হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতি ও আসামির মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাথি মারার কারণে ওই নারীর গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।

গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এন এম মোর্শেদ এই তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভবনের দোতলার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে আলমগীর কবির (৪৫), তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং একটি মৃত ভ্রূণের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরদিন নিহত নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামিক আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তে নেমে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে (৪৪) গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃত হৃদয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত নাজমার পার্স, সিমসহ মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, মনিরুজ্জামান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে এন এম মোর্শেদ বলেন, "আসামি মনিরুজ্জামানের সঙ্গে নিহত নাজমার সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর আসামি মনিরুজ্জামানের বাসায় গিয়ে তাঁকে তাঁদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও মনিরুজ্জামানের মধ্যে মারামারি হয়।"

পুলিশ আরও জানায়, মারামারির একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা নাজমার পেটে লাথি মারা হলে তাঁর সন্তানটি মারা যায়। এরপর নাজমা ও তাঁর স্বামীকে হত্যা করে পালিয়ে যান মনিরুজ্জামান। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।