জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন গবেষক ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট (www.nu.ac.bd/admissions) এর মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ৫ জন করে গবেষককে ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। এমফিল প্রোগ্রামের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে ফেলোশিপ দেওয়া হবে। তবে কোনো প্রোগ্রামে প্রার্থী না থাকলে নির্ধারিত ফেলোশিপের সংখ্যা অন্য প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বিত হবে।
আবেদন ফি হিসেবে এমফিল প্রোগ্রামের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য ২ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। আবেদনকারীরা অনলাইন গেটওয়ে বা পে স্লিপের মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করবেন।
গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক চাহিদা, উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতিরাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ বা জিপিএ ২.৭৫-সহ স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরে পৃথকভাবে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে। স্নাতক (পাস) ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ বা সিজিপিএ ২.৭৫ প্রয়োজন। তবে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.৫০ প্রাপ্তরা আবেদন করতে পারবেন।
পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউজিসি অনুমোদিত পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল/সমমান ডিগ্রি অথবা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ প্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং স্বীকৃত জার্নালে অন্তত একটি গবেষণামূলক প্রকাশনা থাকতে হবে। এছাড়া অন-ক্যাম্পাস অ্যাডভান্সড এমবিএ ও এমএসএস ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে সিজিপিএ ৩.০০ এবং একটি প্রকাশনা থাকলে তারা আবেদনের যোগ্য হবেন।
সরাসরি পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনুমোদিত পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ রয়েছে। তাঁদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরসহ ন্যূনতম ৩টি প্রথম বিভাগ বা সিজিপিএ ৩.০০ এবং ৩ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি স্বীকৃত জার্নালে প্রথম লেখক হিসেবে অন্তত একটি গবেষণামূলক প্রকাশনা থাকতে হবে। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে যেকোনো একটিসহ ন্যূনতম দুটি প্রথম বিভাগ থাকা আবশ্যক। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবে আবেদন করতে পারবেন।
ভর্তির প্রক্রিয়া হিসেবে লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাজীবনের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। আবেদনের সময় প্রার্থীদের একটি সুনির্দিষ্ট শিরোনামসহ ২০০০ শব্দের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাবনা এবং প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়কের নাম উল্লেখ করতে হবে। এই প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করেই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রোগ্রামের মেয়াদ প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে, এমফিল প্রোগ্রামের মেয়াদ এক বছরের কোর্সওয়ার্কসহ মোট দুই বছর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ তিন বছর। এমফিলে একটি এবং পিএইচডিতে দুটি সেমিনার প্রদান করতে হবে। সরাসরি পিএইচডিতে মনোনীতদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের এমফিল গবেষকদের সঙ্গে কোর্সওয়ার্ক সম্পন্ন করতে হবে।
ভর্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের গবেষণা প্রস্তাবনা, সকল সনদ ও নম্বরপত্রের কপি, আবেদন ফি জমা দেওয়ার রশিদ এবং আবেদন ফরমের কপি সঙ্গে রাখতে হবে। ভর্তির সময় মূল সনদ ও নম্বরপত্র প্রদর্শন করতে হবে। ভুল তথ্যের মাধ্যমে ভর্তি হলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষার তারিখ ও স্থান পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।