গতকাল ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচেই শতরান করে ইতিহাস গড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ ব্যাটসম্যান জর্ডান হারমান। ১৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তিনি স্বদেশি সতীর্থ ম্যাথু ব্রিটজকের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছেন। এই সাফল্যের মাধ্যমে ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া ব্যাটসম্যানদের তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হলো হারমানের, যা এখন দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।

ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে ডেনিস অ্যামিসের নাম সবসময় উচ্চারিত হয়। ইংলিশ ওপেনার অ্যামিসের নামে রয়েছে আরও অনেক 'প্রথম'। ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম দুটি সেঞ্চুরিই তাঁরই। ১৯৭২ সালের ২৪ আগস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই অর্জন করেন তিনি, যা ছিল তাঁর অভিষেক ম্যাচ।

ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ওপেনার ডেসমন্ড হেইন্স। ১৯৭৮ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৬ বলে ১৪৮ রান করে হেইন্স যে রেকর্ড গড়েছিলেন, তা ৪৭ বছর টিকে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথু ব্রিটজকে এই রেকর্ড ভেঙে দেন।

অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া মোট ২০ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে মাত্র তিনজন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫ হাজারের বেশি রান করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন হেইন্স (৮৬৪৮), অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (৬৭৮৬) এবং মার্টিন গাপটিল (৬৮৪৩)। অন্যদিকে, হারমানের আগে অভিষেকে সেঞ্চুরি পাওয়া ১৯ জন ব্যাটসম্যানের মধ্যে ৬ জন দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পাননি। তবে রিজা হেনড্রিকস, ম্যাথু ব্রিটজকে, মাইকেল ইংলিশ এবং আমির জাঙ্গুরের এখনও সুযোগ আছে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার।

টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে থেকে হংকংয়ের মার্ক চ্যাপম্যান এবং স্কটল্যান্ডের মাইকেল ইংলিশ ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলা চ্যাপম্যান ২০১৫ সালে দুবাইয়ে আরব আমিরাতের বিপক্ষে এবং ইংলিশ ২০২৪ সালে নামিবিয়ার বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েন।

পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ানডের প্রথম ৩৮ বছরে অভিষেকে মাত্র ৪টি সেঞ্চুরি হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ ১৭ বছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টি। ওয়ানডে অভিষেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস তাওহিদ হৃদয়ের নামে রয়েছে। ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৯২ রান করেছিলেন।

হারমানের ঐতিহাসিক ইনিংসে তিনি খেলেছেন ১২৬ বল, মেরেছেন ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। এই সংস্করণে অভিষেকে সর্বোচ্চ চার মারার রেকর্ড এখন হারমানের। এর আগে ১৯৭৮ সালে হেইন্স ১৬টি চার মেরেছিলেন। চার ও ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রান তুলে আফগান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেন হারমান।