নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের আশ্বাস দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী সাদিয়া ইসলামকে (২৩) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ পরানের আদালতে তার জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় পৌর শহরের বলাইনগুয়া চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা প্রিয়া আক্তার (২৬) নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেন। মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার জানান, "এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তার আমিসহ পাঁচজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ভুল বুঝিয়ে পাঁচ হাজার টাকা করে চান। পরে আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। মঙ্গলবার আমাকে আরও দুই হাজার টাকা দিতে বলেন। পরদিনই আমার ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে।" তিনি আরও বলেন, "এভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। আমরা না বুঝে তাকে টাকা দিয়েছি। এ জন্য বিচার চেয়ে মামলা করেছি।"
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সাদিয়া সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে এবং নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে বুধবার সকালে ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার মামলাটি দায়ের করেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মুক্তকণ্ঠকে জানান, "ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার মামলা করেছেন।" ওসি আরও বলেন, "পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"
এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, সাদিয়া চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অপরদিকে, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপির ওই নেত্রীকে আটকের কথা তিনি শুনেছেন। সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। এ ধরনের কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"