নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামে একটি পারিবারিক বিতর্কের জেরে এক গৃহবধূর শরীরে গরম ভাতের মাড় ছুড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে তাঁর পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। গত রোববার দুপুরে এই ঘটনা সংঘটিত হয়, তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার তা প্রকাশ্যে আসে।
আহত ওই নারীর নাম বিবি কুলছুমা (৩০)। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, কুলছুমা ওই গ্রামের আবদুল গনির দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী মৃত, যার এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি বাড়ির পাশে কুলছুমা শিমগাছ লাগান। রোববার ওই শিমগাছ প্রথম স্ত্রীর ছেলে মো. সাইফুলের ছাগল খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা ও সাইফুলের মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। পরবর্তীতে সাইফুলের পক্ষের লোকজন কুলছুমার শরীরে গরম ভাতের মাড় ছুড়ে দেন, যাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই কেউ পুলিশ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানাননি। অভিযুক্তরা প্রথমে কুলছুমাকে চিকিৎসার নাম করে পাঁচ হাজার টাকা দেয়। এরপর ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ঘটনাটি রোববার ঘটলেও বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি। খবর পেয়ে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। এরপর কুলছুমার বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে ছয়জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।"
এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত দুই নারীর নাম নাজমা আক্তার ও আকলিমা আক্তার। তাঁরা আহত কুলছুমার সৎ মেয়ে।