জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপির গত ছয় মাসের কার্যক্রমে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দলটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দলীয়করণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলায় এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, "বিএনপির ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। তারা ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হয়ে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করছে।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তারা প্রত্যেকটা জায়গায় দলীয়করণ করছে। তারা স্বজনপ্রীতি করছে। বিসিএস ভাইভায় তারা ৪০০ শতাংশ নম্বর বাড়িয়েছে, যেন কেউ প্রিলিতে কোটা পেরিয়ে গেলে তাদের দলীয় কোটায় চাকরি দেওয়া যায়। আমরা মনে করি, বিএনপিকে এই পুরোনো কায়দা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।"
এনসিপি নেতা সতর্ক করে বলেন, "আমরা বিএনপির এই কায়দার যৌক্তিক সমালোচনা করব। বিএনপিকে এটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যদি না হয়, আমাদের রাজপথের কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য আমরা বিএনপির কাছে আহ্বান জানাব।"
প্রশাসনিক নিয়োগ ও সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, "প্রশাসনে ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনও—সবগুলো বিএনপির নেতা ও বিএনপির অফিস থেকে তাদের মতো করে চালাতে চায়। তাহলে তারা যদি এই অবস্থান থেকে বের না হয়, বাংলাদেশের যে সংস্কার আমরা চাই, সেটা সম্ভব নয়। আমরা প্রত্যাশা করি, বিএনপি এই পুরোনো চরিত্র, পুরোনো অভ্যস্ততা ও পুরোনো মনস্তত্ত্ব থেকে বের হয়ে আসবে।"
পাঁচ বছরের মেয়াদ নিয়ে তিনি বলেন, "অন্যথায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশে বিএনপির রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে। এগুলো যদি করতে থাকে, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে পাঁচ বছর বিএনপির জন্য ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি না।"
অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, "যে বেতন স্কেল ছিল, এটা দিয়ে এখনকার দিনে একজন মানুষ ওই চাকরি করে তার পরিবার নিয়ে কোনোদিন চলতে পারবে না। এখন আমরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহ্বান জানাব, জনগণের পক্ষ থেকে জনগণের কষ্টার্জিত টাকা, ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আপনাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। আপনারা এখন আপনাদের দায়িত্ব, পেশাদারিত্ব ও সততা সর্বোচ্চ দেখানোর চেষ্টা করেন।" এরপরও যদি দুর্নীতি বা টাকার বিনিময়ে কাজ করার ঘটনা দেখা যায়, তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, "এরপরও যদি আপনাদের মধ্যে আমরা দুর্নীতি দেখতে পাই, যদি টাকার বিনিময়ে কাজ করতে দেখি, তাহলে আমরা মনে করি, হয়তো আগামীতে যদি আবার এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের বিরুদ্ধে নামবে। ওই দিন আর কেউ অফিস-টফিস করতে পারবেন না।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, যুবশক্তির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু, জাতীয় যুবশক্তির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মাহমুদ, কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী সালমান ও রায়হানুল ইসলাম। এছাড়া ভোলা জেলা এনসিপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, আহ্বায়ক মো. মাকসুদুর রহমানসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।