জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিএনপির বর্তমান ধারায় দল পরিচালনা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালীর একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে এনসিপি পটুয়াখালী জেলা শাখা আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত দেন।
তিনি বলেন, "বিএনপি বর্তমানে যে ধারাবাহিকতায় দল পরিচালনা করছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে।" সার্জিস আলম সতর্ক করে বলেন, "বিএনপি যদি রাজনৈতিক সমঝোতা বা ভোটের হিসাব-নিকাশের কারণে খুনি ও স্বৈরাচারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পথে হাঁটে, তাহলে এর ফল তাদের জন্যই বিপরীত হতে পারে।"
তিনি আজমেরী হক বাঁধনকে সরকারি উদ্যোগে আইনগত সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিএনপিকে চলমান বিভিন্ন ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "কোনো সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু একটি দলের ওপর পড়বে না; সব রাজনৈতিক দলকেই এর মাশুল দিতে হবে। তবে বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সংকটের বড় অংশ তাদেরই মোকাবিলা করতে হবে।"
বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, "বিএনপি ও বিচার বিভাগ যদি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও রাজপথে নামার প্রয়োজন হতে পারে।"
২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে সার্জিস আলম বলেন, "ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে।" তার দাবি, "আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’।" বিএনপির ক্ষেত্রেও অন্যায়ের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
গত ছয় মাসে বিএনপি জনআকাঙ্ক্ষা থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এ ধারা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা তাদের জন্য কঠিন হবে।" দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতের সংকট নিয়েও বক্তব্য রাখেন তিনি। জাতীয় স্বার্থে এসব সংকট মোকাবিলায় বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চায় এনসিপি জানিয়ে তিনি বলেন, "তবে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি কেনা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগেরও সমাধান করতে হবে।"
অরাজকতা সৃষ্টি করে বিরোধীদের দমন করার রাজনীতি আর চলবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, "সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর কারণে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের দুর্ভোগকে কেন্দ্র করে লুটপাটের রাজনীতি হলে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।"
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন। কর্মশালা বিষয়ে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার। এ ছাড়া যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মঞ্জুসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। পরে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালার মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়.